মানুষের দখলে ৩৪ হাজার একর বন: রামুতে ফের বন্য হাতির আক্রমণে মা ও শিশুকন্যার মৃত্যু

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় ফের বন্য হাতির আক্রমণে এক মা ও তার তিন বছর বয়সী শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার সৈয়দ কলোনীতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ছেমন আরা (২৫) এবং তার মেয়ে আসমা বিবি। তারা স্থানীয়ভাবে বসবাসরত মো. একরাম মিয়ার স্ত্রী ও সন্তান।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ভোরের দিকে তিনটি বন্য হাতির একটি পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। হাতিরা কয়েকটি বসতঘরের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে এবং আশপাশের গাছপালা উপড়ে ফেলতে শুরু করে।

“হঠাৎ বিকট শব্দে মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। একরাম মিয়াও স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বের হন। এ সময় দুটি হাতি তাদের দিকে তেড়ে এলে তিনি বড় ছেলেকে নিয়ে পেছনের দিকে সরে গিয়ে বাঁচতে পারলেও তার স্ত্রী ও ছোট মেয়ে সামনে পড়ে যান,” বলেন তিনি।

ঘটনাস্থলেই মা ও মেয়ের মৃত্যু হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

পালানোর সুযোগ ছিল না

ইউপি সদস্যের ভাষ্য, হাতির পালটি ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক, ফলে সামনে পড়ে গেলে পালানোর সুযোগ ছিল না। তাণ্ডব চালানোর সময় হাতিরা আশপাশের আম ও কাঁঠাল খেয়ে পরে পাশের পাহাড়ে চলে যায়।

স্থানীয়দের বরাদ দিয়ে ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদিন জানান, সাম্প্রতিক সময়ে খাবারের সন্ধানে হাতির পাল খুনিয়াপালং ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করছে, যা জনজীবনে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন বলেন, “ঘটনার পর হাতির পালটিকে তাড়িয়ে গভীর বনে পাঠানো হয়েছে। তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

দখল আর বসতিতে সংকুচিত বনভূমিঃ বাড়ছে মানুষ-হাতি সংঘাত

বন বিভাগের তথ্য বলছে, এ অঞ্চলে মানুষ-হাতি সংঘাত নতুন নয়।

দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ-আল-মামুন জানান, তাদের অধীনে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার একর বনভূমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮ হাজার একর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং আরও প্রায় ১১ হাজার একর বিভিন্নভাবে দখল হয়ে গেছে। এছাড়া বনের ভেতরেও বিচ্ছিন্নভাবে বসতি গড়ে উঠেছে।

“আজকের ঘটনাস্থলটি ক্যাম্প থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের বনে। তবে বনের ভেতরে বসবাসকারী অনেকেই ঝুঁকিতে আছেন,” বলেন তিনি।

২০১৬ সালের জরিপ অনুযায়ী দক্ষিণাঞ্চলে ৬০ থেকে ৭০টি হাতি ছিল বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২০ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ২৪টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। এর বিপরীতে মানুষ মারা গেছে অন্তত ৮ জন।

অন্যদিকে, উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন বলেন, ২০১৬ সালের হিসাবে উত্তরের বনে ৭০ থেকে ৮০টি হাতি ছিল। গত এক বছরে একটি হাতি মারা গেছে, তবে গত দশকের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহে সময় লাগবে।

তিনি জানান, ৭৪ হাজার একর বনভূমির মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার একর দখল হয়ে গেছে, যা নিয়ে মামলা চলছে।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন উজাড়, বসতি সম্প্রসারণ এবং খাদ্যসংকটের কারণে হাতিরা ক্রমেই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নেকম’-এর সাবেক জ্যেষ্ঠ প্রকল্প কর্মকর্তা শফিক রহমান বলেন, “হাতির বিচরণক্ষেত্র কমে গেছে, খাদ্যের সংকট তৈরি হয়েছে। তাই তারা লোকালয়ে চলে আসছে।”

তিনি আরও বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে বনভূমিতে চাষাবাদ করলেও ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ পান না। ফলে কেউ কেউ হাতি ঠেকাতে বিদ্যুৎ ফাঁদ বা গুলি ব্যবহার করেন, এতে হাতিও মারা যাচ্ছে।”

স্থানীয়দের আশঙ্কা, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর এই সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।

কক্সবাজারে কয়েক ঘণ্টায় সড়ক দুর্ঘটনা, বজ্রপাত ও আত্মহত্যাসহ ৫ জনের মৃত্যু

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

কক্সবাজারে মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পৃথক পাঁচটি ঘটনায় এক রোহিঙ্গা শিশুসহ অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন, বজ্রপাতে একজন এবং আত্মহত্যায় একজনের মৃত্যু। এসব ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৩-তে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর একটি গাড়ির ধাক্কায় আবু ওয়াইদা (৪) নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্পের ই/০১ ব্লকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আবু ওয়াইদা ক্যাম্প-১৩-এর জি/০৪ ব্লকের বাসিন্দা। তার বাবা মৌলবী আব্দুল্লাহ ও মা হামিদা। পুলিশ জানায়, আইওএম পরিচালিত একটি গাড়ি (চট্ট মেট্রো-চ-১১-৮৭৬৪) ক্যাম্পের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় শিশুটিকে ধাক্কা দিলে সে গুরুতর আহত হয় এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ রোহিঙ্গারা গাড়িটি ভাঙচুর করে। পরে এপিবিএন পুলিশ ও উখিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর গাড়িচালক পালিয়ে গেছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।

ঈদগাঁও উপজেলায় নিজ বসতঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে নুরুল হক (৮০) নামে এক বৃদ্ধ আত্মহত্যা করেছেন।

মঙ্গলবার ভোররাতে উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের জাগিরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, ভোররাতে নিজ ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস নেন নুরুল হক। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, নুরুল হক দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানা গেছে। আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

চকরিয়ায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. মিজানুর রহমান নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হারবাং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মিজানুর রহমান চট্টগ্রামের দোহাজারী পৌরসভার বাসিন্দা। তিনি চন্দনাইশ এলাকায় কর্মরত একজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ ছিলেন।

চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার পরিদর্শক মো. আরিফুল আমিন বলেন, কক্সবাজারমুখী মোটরসাইকেলের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা পূরবী পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষ হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মোক্তার হোসেন (৪৮) নামে একজন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর ইউনিয়নের রাজার ছড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী (শামলাপুর) এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, বাহারছড়া থেকে টেকনাফগামী মোটরসাইকেলটি হঠাৎ এক পথচারী সামনে চলে আসায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঘটনাস্থলেই মোক্তার হোসেন মারা যান। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হন।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের চৌফলদণ্ডী ব্রিজ এলাকায় বজ্রপাতে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

চৌফলদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনজুর আলম জানান, লবণের মাঠ থেকে ব্রিজের ওপর ওঠার সময় বজ্রপাতে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

মনজুর আলম বলেন, নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

শিক্ষক-সংকটে ধুঁকছে কক্সবাজারের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো: খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

কক্সবাজারে মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও প্রশাসনিক সংকটে চলছে। জেলার ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শুধু কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ছাড়া বাকি ৯টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।

একইসঙ্গে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদেও রয়েছে বড় ধরনের শূন্যতা। শুধু টেকনাফ এজাহার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোনো বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নেই। এমনকি দুই শিফটের প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-তেও নেই সহকারী প্রধান শিক্ষক।

বিষয়ভিত্তিক সহকারি শিক্ষক পদের ক্ষেত্রেও আছে ভয়াবহ সংকট। কোথাও কোথাও খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-এ মোট ৪৯টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৩৩ জন, শূন্য ১৬টি। কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-এ ৪৯টির মধ্যে কর্মরত ৩৩, শূন্য ১৬টি।

রামু খিজারি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-এ ২৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৫ জন, শূন্য ১৯টি। মহেশখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-এ ১৫টির মধ্যে কর্মরত ৬, শূন্য ০৯টি। কুতুবদিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-এ ১৫টির মধ্যে কর্মরত ৫, শূন্য ১০টি।

এছাড়া উখিয়া বহুমুখী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-এ ১৪টির মধ্যে কর্মরত ১০, শূন্য ৪টি ; চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-এ ২৫ টির মধ্যে কর্মরত ১০, শূন্য ১৫টি; চকরিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-এ ২৫টির মধ্যে কর্মরত ১১, শূন্য ১৪টি এবং টেকনাফ এজাহার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-এ ১০টির মধ্যে কর্মরত ৪, শূন্য ৬টি।

অর্থাৎ পুরো জেলায় ১৫৩ সহকারি শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত আছে ৯১ জন আর শূণ্য পদ আছে ৬২টি। ৮২ সিনিয়র সহকারি শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত আছে ৩৫ জন আর শূণ্য আছে ৪৭ জন।

তবে ব্যতিক্রম হলো পেকুয়া জিএমসি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এখানে ০৯টি পদের মধ্যে ৯ জনই কর্মরত আছে।

কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-এর প্রধান শিক্ষক রাম মোহন সেন বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোর ডটকমকে বলেন, “অনেকগুলো সেকশন সামলানো খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষক সংখ্যা মাঝেমধ্যে আরও কমে যায়। নিয়মিত অধিদপ্তরে সব তথ্য পাঠানো হয়।”

তিনি বলেন, অনেক শিক্ষক দূর-দূরান্তের জেলা থেকে এখানে যোগদান করেন। পরে বদলি নিয়ে চলে যাওয়ায় সংকট আরও বাড়ে।

সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে তিনি বলেন, “পদ আছে, কিন্তু পদায়ন নেই। আমাদের স্কুলে দুই শিফটের জন্য দুইজন সহকারী প্রধান শিক্ষকের পোস্ট আছে।”

কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুপম দাশ বলেন, বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকলে পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “আমাদের ২০টি সেকশন। গণিত শিক্ষকের ছয়জন থাকার কথা, কিন্তু আছেন মাত্র দুইজন। এতগুলো সেকশনে দুইজন শিক্ষক কীভাবে পাঠদান করবেন?”

তার ভাষায়, বাধ্য হয়ে অন্য বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে গণিত ক্লাস নিতে হয়, এতে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়।

“এখন প্রায়ই বলতে হয়—স্যার, আরেকটা ক্লাসে একটু যান। অমুক স্যার আসেননি, অমুক ছুটিতে আছেন। শিক্ষক স্বল্পতার মধ্যে এভাবে চালানো খুব কঠিন।”

মহেশখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, শিক্ষক সংকট এতটাই তীব্র যে খণ্ডকালীন শিক্ষক ছাড়া বিদ্যালয় চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, “খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ ছাড়া উপায় নেই, না হলে স্কুল বন্ধ করে দিতে হবে। আমরা চারজন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে কোনোরকমে স্কুল চালাচ্ছি।”

বিদ্যালয়গুলোর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আ. মান্নান বলেন, শূন্য পদ দ্রুত পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।

তিনি বলেন, “শূন্য পদের তথ্য নিয়মিত সরকারকে পাঠানো হয়। দ্রুত পদ পূরণের ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়।”

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারের স্থানীয় প্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় বাইরের জেলার শিক্ষকরা নিয়োগ পান, কিন্তু পরে বদলি নিয়ে চলে যান।

“স্থানীয় শিক্ষার্থীরা যদি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বেশি অংশ নিয়ে টিকতে পারে, তাহলে নিজ এলাকায় পোস্টিং দেওয়া সহজ হবে। নিজের এলাকায় থেকে নিজের এলাকার মানুষের সেবা করতে পারবে।”

নাফ নদের সীমান্তে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে ফের নিখোঁজ চাকমা শ্রমিক

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

টেকনাফ-উখিয়া সীমান্তের নাফ নদী এলাকায় কাঁকড়া সংগ্রহ করতে গিয়ে আবারও এক চাকমা দিনমজুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের দাবি, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন। এর আগে একইভাবে নিখোঁজ হওয়া আরও দুই চাকমা যুবকেরও আজ পর্যন্ত কোনো সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজ সা মুং চিং চাকমা টেকনাফ উপজেলার লাম্বাঘোনা এলাকার বাসিন্দা উগবার ছেলে।

পরিবার জানায়, ২২ এপ্রিল বুধবার সকাল ১০টার দিকে উখিয়ার পালংখালীর আঞ্জুমান পাড়া সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীর এলাকায় কাঁকড়া সংগ্রহ করতে যান সা মুং চিং চাকমা। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।

তার স্ত্রী ছাম্মিয়াউ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “আমার স্বামী অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে আমরা সন্দেহ করছি। ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আমরা খুব উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে আছি।”

তিনি জানান, এ ঘটনায় উখিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কাজ করছেন।”

তদন্তসংশ্লিষ্ট এসআই আব্দুল আজাদ বলেন, “সীমান্ত এলাকায় নিখোঁজ হওয়ায় এবং এখন পর্যন্ত কোনো ক্লু না পাওয়ায় তদন্তে তেমন অগ্রগতি নেই। তবে আমরা কাজ করছি।”

দুই বছর আগেও একইভাবে নিখোঁজ দুই যুবক

স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি নতুন ঘটনা নয়। প্রায় দুই বছর আগে একইভাবে কাঁকড়া ও মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হন আরও দুই চাকমা যুবক। আজ পর্যন্ত তাদেরও কোনো সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজ ওই দুইজন হলেন টেকনাফ উপজেলার ১ নম্বর হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাঘোনা চাকমা পল্লীর বাসিন্দা ছৈলা মং চাকমা (৩০) ও ক্যমংখোএ তঞ্চঙ্গ্যা (১৯)।

ছৈলা মং চাকমার ভাই পিরামং চাকমা বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ মে সকাল ৭টার দিকে টেকনাফ থানাধীন হাউস দ্বীপের পাশে ৫ নম্বর গেইট সংলগ্ন নাফ নদীতে কাঁকড়া আহরণ করতে গিয়ে তারা নিখোঁজ হন।

তিনি বলেন, “ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী আমাদের জানিয়েছিলেন, তাদেরকে সেখানে আটকে রাখা হয়েছে। ধারণা করছি কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাদেরকে ধরে রেখেছে। কিন্তু কেন আটকে রাখা হয়েছে, তা আমরা জানি না। আজ পর্যন্ত কোনো মুক্তিপণও দাবি করা হয়নি।”

“দুই বছর পার হতে চলেছে। এখন আমরা তাদের জীবনের ঝুঁকি কিংবা প্রাণনাশের আশঙ্কা করছি।”

অভিযোগের পরও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম কক্সবাজার জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাত তঞ্চঙ্গ্যা আলো বলেন, নিখোঁজের ঘটনার পরদিন ১৭ মে টেকনাফ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।

তিনি বলেন, “বিজিবি, র‍্যাবসহ সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে প্রশাসনের কাছে বারবার ধর্না দিয়েও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখিনি।”

‘সীমান্ত পেরিয়ে গেলে উদ্ধার কঠিন’

তবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মানুষ অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারের ভেতরে চলে যায়, ফলে পরে নিখোঁজের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে বিজিবির উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নাফ নদীতে মাছ ধরা, কাঁকড়া ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু অনেকেই স্থানীয় মহাজন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সেখানে যায়।”

তিনি বলেন, “কেউ নিখোঁজ হয়, কেউ মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়, তবু মানুষের যাওয়া থামছে না। অনেক সময় তারা অবৈধ ব্যবসা, বিশেষ করে মাদক সংশ্লিষ্ট কাজেও জড়িয়ে পড়ে।”

বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা মানুষকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করছি। রোহিঙ্গারাও যেন সীমান্তে না যায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করছি। কিন্তু একজন নাগরিক হিসেবে কেউ নিজের দেশের সীমানা পেরিয়ে অন্য দেশে গেলে সেটি তার ব্যক্তিগত দায়ও।”

তিনি আরও বলেন, “জেলেদের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, যারা অপহরণের অভিযোগ করে, তাদের ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশই মিয়ানমারের ভেতরে চলে যায়। বাংলাদেশের ভেতরে থেকে তাদের অপহরণ করা হয়েছে, এমন প্রমাণ সাধারণত পাওয়া যায় না।”

স্থানীয় চাকমা সম্প্রদায়ের মানুষের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় জীবিকার তাগিদে কাঁকড়া ও মাছ ধরতে যাওয়া অনেকেই আর ফিরে আসছেন না। কিন্তু নিখোঁজদের উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগের অভাব তাদের হতাশ করে তুলছে।

কক্সবাজার উপকূলের নতুন স্বপ্ন ‘সামুদ্রিক শৈবাল’

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া সৈকতে একসময় ঝিনুক কুড়িয়েই সংসারে সামান্য সহায়তা করতেন আনোয়ারা বেগম। মহেশখালী চ্যানেলের তীর থেকে সংগ্রহ করা সেই ঝিনুক বিক্রি করতে তিনি যেতেন শহরের বড়বাজারের বার্মিজ মার্কেটে, যেখানে রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন প্রধান ক্রেতা।

সেই বাজারেই প্রথম তাঁর চোখে পড়ে কালো, চুলের মতো দেখতে এক ধরনের সামুদ্রিক শৈবাল, যা দেখতে অনেকটা কালো সেমাইয়ের মতো। রাখাইন সম্প্রদায়ের রান্নায় ব্যবহৃত এই শৈবাল মূলত মিয়ানমার থেকে আসত।

আনোয়ারা ও তাঁর সঙ্গীরা দ্রুত বুঝতে পারেন, ভাটার সময় সৈকতে যে সামুদ্রিক আগাছার মতো উদ্ভিদ তারা দেখেন, সেটিই আসলে বাজারে বিক্রি হওয়া এই শৈবাল। চাহিদা দেখে তারা সৈকত থেকে সেই শৈবাল সংগ্রহ করে বিক্রি শুরু করেন।

এর কিছুদিন পর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) এক বিজ্ঞানী তাঁদের কাছে শৈবাল চাষের প্রস্তাব নিয়ে আসেন। শুরুতে অবাক হলেও পরে প্রশিক্ষণ ও চারা পেয়ে ধীরে ধীরে তাঁরা শৈবাল চাষে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন।

বর্তমানে আনোয়ারা বেগম সপ্তাহে তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করেন এই শৈবাল চাষ থেকে।

তিনি বলেন, “আগে সংসারের কাজ ছাড়া নিজের কোনো আয় ছিল না। এখন নভেম্বর থেকে টানা সাত মাস শৈবাল চাষ করা যায়। মাসে দুইবার ফসল তোলা যায়। কাজও খুব কম। বাঁশ, দড়ি আর চারা পানিতে বসিয়ে দিলেই ১৫ দিনের মধ্যে সংগ্রহ করা যায়।

তিনি জানান, তিনি এখন দুই ধরনের শৈবাল চাষ করেন। একটি কালো, অন্যটি সবুজ। স্থানীয় রাখাইন বাজার ছাড়াও লামা, আলীকদমসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় এসব বিক্রি হয়।

ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে চাষ

বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক শৈবালের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে এর বাণিজ্যিক চাষ।

প্রথমদিকে অল্প কয়েকটি পরিবার প্রশিক্ষণ পেলেও এখন শুধু বারি-এর মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কৃষক নিয়মিত চারা পাচ্ছেন। এছাড়া জাইকা ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় আরও প্রায় ৫০০ মানুষ কক্সবাজারে শৈবাল চাষ করছেন।

তবে উদ্যোক্তারা বলছেন, বাজারের তুলনায় উৎপাদন এখনও অনেক কম। বড় অর্ডার এলেও কৃষকদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া যায় না।

নুনিয়াছড়ার আরেক চাষি মরিয়ম বেগম বলেন, “চাহিদা এত দ্রুত বাড়ছে যে আমরা ঠিকমতো সরবরাহই দিতে পারছি না।”

গবেষণা থেকে বাণিজ্যে

কক্সবাজারে শৈবাল চাষ সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি বারি-এর জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ।

তিনি ২০১৬ সালে পরীক্ষামূলকভাবে শৈবাল চাষ শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আগ্রহ তৈরি করেন।

মোস্তাক বলেন, মূলত দুই ধরনের শৈবাল চাষ হচ্ছে, কালো, চুলের মতো ‘গ্রাসিলারিয়া’ এবং সবুজ, লেটুস পাতার মতো ‘উলভা’।

তিনি বলেন, “শৈবাল বিশ্বজুড়ে খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনীসহ নানা শিল্পে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জলজ সম্পদ।”

তিনি জানান, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, ইনানী সৈকত ও কক্সবাজার উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিকভাবেই শৈবাল জন্মায়।

শৈবালে বিটা ক্যারোটিন, বি ভিটামিন, ভিটামিন সি, ডি, ই ও কে রয়েছে। এটি সরাসরি খাওয়া যায়, আবার এর থেকে তৈরি আগার আইসক্রিম, মেয়োনিজ, ওষুধের ক্যাপসুল, মলম, ক্রিম, টুথপেস্ট, চকোলেট, লিপস্টিক, এমনকি রঙ তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়।

মোস্তাক বলেন, গ্রাসিলারিয়ার চারা স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ করা গেলেও উলভার চারা ‘বারি’ সরবরাহ করে। এই উলভা জাতটি জাপান থেকে আনা হয়েছে এবং এর বাজার চাহিদা বেশি।

চাষের জন্য কৃষকদের বাঁশ, ১০ মিটার দড়ি ও শৈবালের চারা দেওয়া হয়।

বাড়ছে উৎপাদন, বাড়ছে বাজার

বারি-এর গবেষণা সহকারী মাকসুদুল হক বলেন, গত বছর তারা এক হাজার দড়ি বিতরণ করেছিলেন, এ বছর তা বাড়িয়ে দুই হাজার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “প্রতি দড়ি থেকে মাসে প্রায় দুই কেজি উলভা উৎপাদন হয়। নুনিয়াছড়ায় আমরা খুঁটি-দড়ি পদ্ধতি এবং ভাসমান ভেলা, দুই পদ্ধতিতেই চাষ করছি।”

চাষি শফি আলম বলেন, তিনি ও তাঁর পরিবার লামা, আলীকদম এবং বান্দরবান শহরে শৈবাল বিক্রি করেন।

“শুকনো কালো শৈবাল কেজি ৩০০ টাকা, তাজা কালো শৈবাল ১০০ টাকা এবং শুকনো সবুজ শৈবাল ১,০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়,” বলেন তিনি।

ব্যবসায়ীদেরও আগ্রহ

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীও এখন কৃষকদের কাছ থেকে শৈবাল কিনে ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং কক্সবাজারের পাঁচ তারকা হোটেলগুলোতে সরবরাহ করছেন।

মেসার্স আলমগীর স্টোরের মালিক মো. নোমান বলেন, গত বছর তিনি দেড় লাখ টাকার শুকনো সবুজ শৈবাল কিনেছিলেন।

তিনি বলেন, “আমার মতো আরও চার-পাঁচজন ব্যবসায়ী এখন এই ব্যবসায় আছেন। কিন্তু কৃষকরা চাহিদামতো সরবরাহ দিতে পারছেন না। এজন্য আমরা নিজেরাও কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছি, যাতে তারা উৎপাদন বাড়াতে পারেন।”

নোমান জানান, তিনি সবুজ শৈবাল অন্তত ১,৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। তাঁর প্রধান ক্রেতা কক্সবাজারের কয়েকটি পাঁচ তারকা হোটেল। এছাড়া বিদেশ থেকেও অর্ডার আসে।

কক্সবাজারে ৪৮ ঘণ্টায় ৬ মরদেহ, অপহরণে মুক্তিপণ: পুলিশের দাবী আইনশৃঙ্খলা ‘স্বাভাবিক’ রয়েছে

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

কক্সবাজারে গত মঙ্গল ও বুধবার মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ছয়টি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা এবং একই সময়ে এক ইউপি সদস্যকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে আনার অভিযোগ ঘিরে জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবদূত মজুমদার বলছেন, আইনশৃঙ্খলা “স্বাভাবিক” রয়েছে এবং প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।

সামগ্রিক বিষয়ের প্রেক্ষিতে বে ইনসাইট জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অপরাধ তো ঘটবেই, এটা বাস্তবতা। তবে আমরা সর্বোচ্চ তৎপরতা ও আমাদের সব মেকানিজম ব্যবহার করে কাজ করছি, যেন প্রতিটি ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা যায়।”

পাহাড়ে ঝুলন্ত সেবায়েতের মরদেহ

কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর নয়ন দাশ (৩৫) নামে এক মন্দির সেবায়েতের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ ছমিউদ্দিন জানান, বুধবার দুপুরে পূর্ব হামজার ডেইল এলাকার একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়।

নয়ন দাশ ওই এলাকার নাগ পঞ্চমী মন্দিরের সেবায়েত ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার দোহাজারীর বাসিন্দা।

পরিবারের ভাষ্য, ১৯ এপ্রিল রাতে অজ্ঞাত কয়েকজন তাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

ওসি বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

টেকনাফে তিন যুবকের মরদেহ, ‘ডাকাত-মানবপাচারকারী’ দাবি পুলিশের

টেকনাফের বাহারছড়ার গহীন পাহাড় থেকে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ, যাদের ‘ডাকাতি ও মানবপাচার চক্রের সদস্য’ বলে দাবি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে উত্তর শীলখালী পাহাড়ে কাঠুরিয়ারা মরদেহগুলো দেখতে পান।

নিহতরা হলেন মুজিব উল্লাহ, নুরুল বশর ও রবিউল আওয়াল।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়, অপর দুজন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।

টেকনাফ থানার ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন বলেন, “অপহরণ ও মানবপাচারকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটতে পারে।”

স্থানীয়দের দাবি, পাহাড়ি এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের অভয়ারণ্য, যেখানে জিম্মি করে রাখার ঘটনাও ঘটে।

ইউপি সদস্য অপহরণ, মুক্তিপণ না ‘উদ্ধার’ দ্বন্দ্বে দুই বক্তব্য

রামুর ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়ক থেকে অপহৃত ইউপি সদস্য রুস্তম আলী (৪১) একই দিন রাতে ফিরে এলেও তার মুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

পরিবারের দাবি, ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হলেও দরকষাকষির পর ৮ লাখ টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে।

রুস্তম আলীর চাচা বলেন, “নির্ধারিত স্থানে নগদ টাকা দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।”

তবে রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলছেন, “অভিযান চালিয়েই তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, মুক্তিপণের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।”

পুলিশ সূত্র জানায়, রুস্তম আলীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং অপহরণের পেছনে পুরোনো বিরোধ বা অপরাধ জগতের দ্বন্দ্ব থাকতে পারে।

মুক্তিপণের পর উদ্ধার দেখিয়ে পুলিশ কোনো ক্রেডিট দেখাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবদূত মজুমদার বলেন, “এই বিষয়ে এই মুহূর্তে আমার কাছে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। আমি জেনে আপনাকে জানাতে পারব।”

চকরিয়ায় বেড়িবাঁধে যুবকের মরদেহ

চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হাজিয়ান এলাকায় মাতামুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ থেকে সাকিব (২৬) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ধারণা, তাকে হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে।

চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, “ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।”

রামুতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

রামুর চাকমারকুল ইউনিয়নে তানিয়া আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

রামু থানার ওসি জানান, “ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।”

পুলিশের অবস্থান: ‘আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক’

এতসব ঘটনার পরও জেলা পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবদূত মজুমদার বলেন, “আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক আছে। তদন্তাধীন বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয়, তবে আমরা প্রতিটি ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।”

উদ্বেগে স্থানীয়রা

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে অপহরণ, ডাকাতি ও মানবপাচার দীর্ঘদিন ধরে চললেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়ককে ‘আতঙ্কের রুট’ হিসেবে উল্লেখ করে সেখানকার বাসিন্দারা বলছেন, দিনের আলোয় একজন জনপ্রতিনিধি অপহরণের ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেছে।

তাদের মতে, বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, সমন্বিত ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ ছাড়া এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

আন্দামান ট্র্যাজেডি: সমিতি পাড়ার যে শিশুদের খবর নেয়নি কেউ

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

কক্সবাজার শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতি পাড়া। সাগরপাড়ের সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ভিটেমাটি হারানো মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার মানুষদের বসতি হিসেবে শুরু হলেও, এখন এখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা নিম্নআয়ের মানুষ অল্প ভাড়ায় বসবাস করছেন।

প্রভাবশালীদের মাধ্যমে অবৈধভাবে জায়গা নিয়ে কাঠ ও বাঁশের ঘর তুলে গড়ে উঠেছে পুরো পাড়া।

সম্প্রতি আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের খোঁজে বে ইনসাইট যায় সমিতি পাড়ার বাগানপাড়া এলাকায়। স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করতেই কয়েকজন শিশু পথ দেখিয়ে নিয়ে যায় ঝাউবনের ভেতর সরু গলিপথ পেরিয়ে একটি ছোট ঘরের সামনে।

ঘরের দরজায় বসে ছিল ৮ থেকে ১০ বছরের এক শিশু। অন্যরা পরিচয় করিয়ে দেয়, তার নাম জুনায়েদ। তার বাবা মোহাম্মদ নূর, মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়েছেন। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বাবার কথা বলতে গিয়ে চোখ ভিজে ওঠে শিশুটির। ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিল না।

জুনায়েদ জানায়, তার মা এখন অন্যত্র থাকেন। সে ও তার বড় ভাই সৎমায়ের সঙ্গে এখানে থাকত। কিন্তু বাবার নিখোঁজ হওয়ার পর সৎমাও চলে গেছেন। এখন দুই ভাইই এই ঘরে থাকে। বড় ভাইকে পাওয়া যায়নি, সে সুগন্ধা পয়েন্টে ঘোড়া চালিয়ে সংসারের খরচ জোগাড় করে।

কথোপকথনের এক পর্যায়ে জুনায়েদের চাচাতো ভাই, আট বছর বয়সী মোহাম্মদ হোসেন বাড়িতে আসে। তার বাবা মোহাম্মদ হারুনও একই ঘটনায় নিখোঁজ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুই শিশুই জানায়, তাদের বাবারা মালয়েশিয়ায় যাচ্ছিলেন পরিবারের সচ্ছলতার জন্য। পরে তারা জানতে পারে, আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় তারা নিখোঁজ।

এ সময় প্রতিবেশী মোহাম্মদ আলম মাইজভান্ডারী বলেন, ২ এপ্রিল নূর ও হারুন যখন বিদায় নিচ্ছিলেন, তখন তিনি উপস্থিত ছিলেন। তারা জানিয়েছিলেন ভাগ্য বদলাতে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন, তবে কার মাধ্যমে যাচ্ছেন তা বলেননি।

একই পাড়ার আরেক বাসিন্দা শফিউল্লাহও ওই ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ হয়েছেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে। তার শাশুড়ি রহিমা বেগম বলেন, উত্তাল সাগরের আশঙ্কায় তিনি জামাইকে যেতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু শফিউল্লাহ বলেছিলেন, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, তাই তিনি মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

কেন মামলা করা হয়নি জানতে চাইলে রহিমা বেগম বলেন, “কার বিরুদ্ধে মামলা করব বুঝতে পারছি না।”

তিনি আরও বলেন, যারা তাদের নিয়ে গিয়েছিল তারা জানিয়েছে, হয়তো ভেসে কোনো দ্বীপে পৌঁছাতে পারে, এই আশাতেই তারা মামলা করেননি। তবে পরে তিনি স্বীকার করেন, শফিউল্লাহ কার মাধ্যমে গেছেন তা তারা জানেন না।

সমিতি পাড়া থেকে ওই ট্রলারে ছিলেন অন্তত পাঁচজন। নূর, হারুন, শফিউল্লাহ ছাড়াও হামিদ মাঝি ও তার ভাই ইব্রাহিম খলিল। খলিলের স্ত্রী জুবাইদা বলেন, তার স্বামী অটোরিকশা চালাতেন, ভাগ্য ফেরাতে মালয়েশিয়া যেতে চেয়েছিলেন।

হামিদ মাঝি জীবিত উদ্ধার হওয়া নয়জনের একজন। কোস্টগার্ডের দায়ের করা মামলায় তিনি এক নম্বর আসামি। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া নয়জনের মধ্যে ছয়জন বাংলাদেশীই পাচারকারী চক্রের সদস্য।

স্থানীয়দের দাবি, হামিদ মাঝি এর আগেও একাধিকবার ট্রলার নিয়ে মালয়েশিয়া গেছেন। নিরাপদে ফিরে আসায় অনেকেই তার মাধ্যমে অবৈধভাবে যাওয়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তারা আরও দাবি করেন, হামিদের বড় ভাই ইলিয়াস ও তার স্ত্রী রোজিনা এই পাচার চক্রের মূল হোতা।

তবে পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তারা জানেন না তাদের স্বজনরা কার মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বলেন, পাচারকারীরা ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের চুপ থাকতে বাধ্য করছে, ফলে কেউ আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে টেকনাফ থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ ওই ট্রলারে ছিলেন। এছাড়া পেকুয়া থেকে ১২ জন, রামু থেকে চারজনসহ আরও অনেক এলাকার মানুষ যাত্রী ছিলেন বলে স্বজনরা দাবি করছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা না থাকায় নিখোঁজের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমদাদুল হক শরীফ বলেন, “পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।”

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, “বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য লিখিতভাবে সরকারকে জানানো হচ্ছে এবং যাচাই-বাছাই চলছে। নিশ্চিত না হয়ে সংখ্যা প্রকাশ করা ঠিক হবে না।”

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকেও কিছু মানুষ ওই ট্রলারে উঠেছিল।

তবে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবু সালেহ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ বলেন, “এখনও কোনো রোহিঙ্গা পরিবার থেকে নিখোঁজের অভিযোগ পাইনি।”

তিনি যোগ করেন, সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় রোহিঙ্গারা অভিযোগ করে না, ফলে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, “এই ধরনের সংগঠিত অপরাধ বন্ধ করা কঠিন নয়, কিন্তু সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু রুটে নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচার চালিয়ে যাচ্ছে।”

কোস্টগার্ড জানায়, ৯ এপ্রিল বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমটি মেঘনাপ্রাইড আন্দামান সাগরে ভাসমান অবস্থায় ছয় বাংলাদেশি ও তিন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে। পরে তাদের কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় উদ্ধার হওয়া কয়েকজনকে পাচারকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম জানান, ট্রলারটিতে প্রায় আড়াইশোর বেশি বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা ছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা কয়েকজন কাঠের টুকরো ও পানির বোতল আঁকড়ে ভেসে থাকতে পেরেছিলাম, কিন্তু অনেকেই সাগরে হারিয়ে গেছে।”

দুনিয়াজুড়ে জ্বালানি সংকট: জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুৎ দিচ্ছে যে কেন্দ্র

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাব যখন বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি করেছে, তখন কক্সবাজারের একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প নীরবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে যাচ্ছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ও চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের উপকূলজুড়ে গড়ে ওঠা বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাতাস থাকলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে। বিশাল আকারের টারবাইনগুলো ইতোমধ্যে এলাকাটির নতুন ল্যান্ডমার্কে পরিণত হয়েছে, যা দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।

২০২৪ সালের ৮ মার্চ প্রকল্পটির উদ্বোধন হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এটি পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যায়। দুই বছর পর এখন প্রশ্ন- দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রকল্পটির অবদান কতটা?

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইউএস-ডিকে গ্রিন এনার্জি বিডি লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে, যার অর্থায়নে সহযোগিতা করেছে চীনের এসপিআইসি ওয়েইলিং পাওয়ার করপোরেশন। প্রকল্পের আওতায় ৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২২টি টারবাইন স্থাপন করা হয়েছে, যার মোট স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা ৬০ মেগাওয়াট।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) জানায়, উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি তাদের কাছেই বিক্রি করা হয়।

বিপিডিবির ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার সেল-৩ এর উপপরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ ফরিদি বলেন, “২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই কেন্দ্র থেকে প্রায় ১৮৪ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে।”

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সময়ে কেন্দ্রটি গড়ে ঘণ্টায় প্রায় ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। স্থাপিত ক্ষমতা ৬০ মেগাওয়াটের তুলনায় এটি প্রায় ১৭ শতাংশ উৎপাদন হার নির্দেশ করে।

ফরিদি বলেন, “নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে ১৭ শতাংশ উৎপাদন হারকে উৎসাহব্যঞ্জক বলা যায়। এমনকি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোও সাধারণত ২০ শতাংশের মতো উৎপাদন করে।”

অর্থনৈতিক দিক থেকে এই প্রকল্পে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ১২ কোটি ডলার। সরকার প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১২ সেন্ট দরে কিনছে। সেই হিসাবে গত দুই বছরে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ ডলারের বিদ্যুৎ কিনেছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পেতে প্রায় ১০ বছর সময় লাগতে পারে। তবে টারবাইনগুলো ২০ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় তুলনামূলক কম।

প্রকল্পটির সাবেক পরিচালক প্রকৌশলী মুকিত আলম খান বলেন, “এ ধরনের আরও প্রকল্প হাতে নেওয়া গেলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।”

বর্তমানে আকিজ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের চিফ বিজনেস অফিসার হিসেবে কর্মরত মুকিত বলেন, “সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কক্সবাজার অঞ্চলে বাতাসের প্রবাহ কিছুটা কমেছে। প্রকৃতিতে এমন পরিবর্তন কয়েক বছর স্থায়ী হতে পারে। পরিস্থিতি উন্নত হলে উৎপাদনও বাড়বে।”

প্রাথমিকভাবে স্থাপিত ক্ষমতার ২৩ শতাংশ উৎপাদনের আশা করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

সাম্প্রতিক সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশিরভাগ টারবাইন সচল রয়েছে এবং ব্লেড ঘুরছে। শীতকালে বাতাসের গতি কম থাকায় উৎপাদন কমে যায়, তবে গ্রীষ্মে বাতাস বাড়ার সঙ্গে উৎপাদনও বাড়ে।

ইউএস-ডিকে গ্রিন এনার্জির সহকারী ব্যবস্থাপক ও প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন বলেন, “বাংলাদেশে সৌর বিদ্যুতের সম্ভাবনা বেশি, কিন্তু সূর্য ডোবার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে বাতাস থাকলে বায়ু বিদ্যুৎ যেকোনো সময় উৎপাদন করতে পারে।”

তিনি জানান, বাতাসের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩ মিটার হলে উৎপাদন শুরু হয় এবং ৯ মিটার হলে পূর্ণ ৩ মেগাওয়াট উৎপাদন সম্ভব।

“বিকাল থেকে রাত যখন বিদ্যুতের চাহিদা বেশি, তখন বাতাসও তুলনামূলক ভালো থাকে,” বলেন তিনি।

ভূমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পের বড় সুবিধা রয়েছে উল্লেখ করে বেলাল বলেন,

এক মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় তিন একর জমি লাগে, কিন্তু ৩ মেগাওয়াটের একটি বায়ু টারবাইনের জন্য লাগে মাত্র ২০ শতাংশ জমি।

তবে বজ্রপাত বড় ঝুঁকি উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রায় ৯০ মিটার উঁচু টাওয়ারগুলোতে বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাতাসের গতি সর্বোচ্চ থাকে এবং এই সময় উৎপাদনও সর্বাধিক হয়।

মুকিত আলম খান বলেন, “কক্সবাজার এলাকায় গড় বাতাসের গতি প্রায় ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রতি সেকেন্ড। উপকূলীয় অঞ্চলে আরও বেশি গতির বাতাস থাকায় সেখানে বায়ু বিদ্যুতের সম্ভাবনা উজ্জ্বল।”

চৌফলদণ্ডীর বাসিন্দা শারমিন সুলতানা বলেন, “এটা এখন দর্শনীয় জায়গা হয়ে গেছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে। ভালো লাগে। কিন্তু আমাদের পাশেই কেন্দ্র, তবুও আমরা অন্ধকারেই থাকি।”

তিনি জানান, শীতকালে লোডশেডিং কম থাকলেও গরম পড়তেই আবার বেড়েছে।

“গত গরমে অনেক রাত বিদ্যুৎ ছিল না,” বলেন তিনি।

ইউএস-ডিকে গ্রিন এনার্জির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহুরুল ইসলাম খান বলেন, “উৎপাদন নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। কিন্তু দুঃখজনক হলো, নতুন প্রকল্পের জন্য বিনিয়োগ প্রস্তুত থাকলেও অনুমোদন না পাওয়ায় এগোতে পারিনি।”

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমিনুর রহমান বলেন, “উপকূলীয় এলাকায় বায়ু বিদ্যুতের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। জ্বালানি খরচ না থাকায় এটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী।”

তিনি বলেন, “এটি পরিবেশবান্ধব, কার্বন নিঃসরণ কমায় এবং বৈশ্বিক কার্বন বাজারেও ভূমিকা রাখতে পারে।”

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে জানান তিনি।

স্রেডার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রথম বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হয় ২০০৫ সালে ফেনীর সোনাগাজীতে। পরে কুতুবদিয়ায় ১ মেগাওয়াটের আরেকটি প্রকল্প স্থাপন করা হলেও তা স্থায়ীভাবে চালু রাখা যায়নি।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১,৩৭০ মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাতাসের গতিবেগ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

ন্যাশনাল রিনিউএবল এনার্জি ল্যাবরেটরির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুলনার দাকোপ, চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও চাঁদপুরের মোহনা অঞ্চলে বাতাসের গতি ৬ মিটার প্রতি সেকেন্ডের বেশি, যা বায়ু বিদ্যুতের জন্য উপযোগী।

প্রতিবেদনটি বলছে, দেশে প্রায় ২০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৫ দশমিক ৭৫ থেকে ৭ দশমিক ৭৫ মিটার গতির বাতাস পাওয়া যায়, যা তাত্ত্বিকভাবে ৩০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি করে।

২০২৩ সালের জুলাইয়ে ডেনমার্কভিত্তিক কোপেনহেগেন ইনফ্রাস্ট্রাকচার পার্টনার্স বঙ্গোপসাগরে ৫০০ মেগাওয়াটের অফশোর বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পে ১৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয়।

এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের উপকূলীয় জ্বালানি সম্ভাবনা উন্মোচনের পাশাপাশি ব্লু ইকোনমি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়তে পারে।

রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তাহসানের দায়িত্ব নবায়ন

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

জনপ্রিয় গায়ক, গীতিকার, অভিনেতা ও উপস্থাপক তাহসান খান জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের (UNHCR) শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তাঁর দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে নবায়ন করেছেন।

ইউএনএইচসিআরের পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২১ সালে বাংলাদেশে সংস্থাটির প্রথম শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি শরণার্থী ইস্যুতে সচেতনতা তৈরি ও জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে কাজ করে আসছেন।

দায়িত্ব নবায়নের পর তাহসান বলেন, “রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর নয় বছর পার হয়েছে। একটি টেকসই সমাধান না আসা পর্যন্ত তাদের দুর্দশার প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল থাকা প্রয়োজন।”

তিনি জানান, শরণার্থী ক্যাম্পে গিয়ে বহু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

আমি এমন সব পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি, যারা অকল্পনীয় ক্ষতি ও কষ্টের শিকার হয়েছেন। তাঁদের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমি তাঁদের গল্পগুলো সবার কাছে তুলে ধরতে চাই।

বিবৃতিতে বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, তাহসান দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থীদের পক্ষে একজন সক্রিয় কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করছেন।

“তাঁর সম্পৃক্ততা এমন এক সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধের প্রতিফলন, যা এই সময়ে আমাদের সবার প্রয়োজন। তাঁর নিয়োগের মেয়াদ বাড়াতে পেরে আমরা গর্বিত,” বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দশ লাখের বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের কণ্ঠস্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত কয়েক বছরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন তাহসান। তিনি ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন, শরণার্থী সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বিশ্ব শরণার্থী দিবসসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে যুক্ত ছিলেন।

২০২৫ সালে ক্যাম্পের একাংশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করেন তিনি। ওই ঘটনায় হাজারো মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হওয়ার বিষয়টি নিজের চোখে দেখেছেন বলে জানান।

সে সময় তাহসান বলেন, “শরণার্থীরা স্বেচ্ছায় নিরাপদে নিজ দেশে ফিরতে চায়। যতদিন তা সম্ভব না হয়, ততদিন আমাদের তাদের পাশে থাকতে হবে—সহায়তা, সুরক্ষা ও জীবনরক্ষাকারী সেবা দিয়ে।”

ইউএনএইচসিআরের কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “শরণার্থী সংকট মোকাবেলায় সংস্থাটির অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য আমি কৃতজ্ঞ, বিশেষ করে তাদের কাজের সঙ্গে জড়িত ঝুঁকিগুলো বিবেচনায় নিলে।”

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই কক্সবাজার জেলার ৩৩টি ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে বসবাস করছেন, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী আবাসন।

প্রায় নয় বছর ধরে এসব ক্যাম্পে বসবাস করা অনেক শরণার্থীর জন্য শিক্ষা, জীবিকা ও দীর্ঘমেয়াদি সুযোগের প্রবেশাধিকার সীমিত।

ইউএনএইচসিআরের ৩৬ জন শুভেচ্ছাদূতের একজন হিসেবে তাহসান এখন একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করছেন। শুভেচ্ছাদূতরা জনসমর্থন তৈরি এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রয়োজন ও অধিকার তুলে ধরার মাধ্যমে সংস্থাটির কার্যক্রমকে এগিয়ে নেন।

বিবৃতিতে ইউএনএইচসিআর বলছে, তাহসানের দায়িত্ব নবায়নকে শরণার্থীদের প্রতি সংস্থাটির আস্থা ও যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদি এই সংকটে আক্রান্ত মানুষগুলো বিশ্ববাসীর দৃষ্টি থেকে হারিয়ে না যায়।

টেকনাফের পাহাড় থেকে তিন যুবকের লাশ উদ্ধারঃ পুলিশ বলছে ‘পাচার-ডাকাতি’ দ্বন্দ্ব

কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ার গহীন পাহাড় থেকে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ তাদের ‘ডাকাতি ও মানবপাচারের’ সাথে জড়িত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকার পাহাড়ে তাদের মরদেহ দেখতে পান কাঠুরিয়ারা। পরে সেখান থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস ।

নিহতরা হলেন- স্থানীয় নুরুল কবিরের ছেলে মুজিব উল্লাহ, নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল বশর ও রুহুল আমিনের ছেলে রবিউল আওয়াল।

রবিউল আউয়ালের পিতা রুহুল আমিন জানান, আগের রাতে মোরশেদ আলম নামের এক যুবক তার ছেলেকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। সকালে পাহাড়ে মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে গিয়ে দেখেন, তার ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

মোরশেদ আলমের নামে ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান রুহুল আমিন।

পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস জানান, ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় অপর দুজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে তারা মারা যান।

পুলিশের ভাষ্য, এরা ৩ জন চিহ্নিত ডাকাত ও মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন জানান, রবিউল ও মুজিবের নামে থানায় অপরাধের রেকর্ড আছে।

“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণ ও মানব পাচারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, “পাহাড়ি এলাকাটি অপরাধীদের অভয়ারণ্য। অপহরণ ও মানবপাচার সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।”

ওই পাহাড়ি এলাকার বেশকয়েকজন কাঠুরিয়া জানান, সম্প্রতি গহীন পাহাড় থেকে মাঝে মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ ভেসে আসে। লোকজনকে জিম্মি করে রাখার ঘটনা ঘটে এখানে।

তাদের ধারণা, জিম্মিদের সঙ্গে জড়িতদের সংঘর্ষের জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।