রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তাহসানের দায়িত্ব নবায়ন

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

জনপ্রিয় গায়ক, গীতিকার, অভিনেতা ও উপস্থাপক তাহসান খান জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের (UNHCR) শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তাঁর দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে নবায়ন করেছেন।

ইউএনএইচসিআরের পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২১ সালে বাংলাদেশে সংস্থাটির প্রথম শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি শরণার্থী ইস্যুতে সচেতনতা তৈরি ও জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে কাজ করে আসছেন।

দায়িত্ব নবায়নের পর তাহসান বলেন, “রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর নয় বছর পার হয়েছে। একটি টেকসই সমাধান না আসা পর্যন্ত তাদের দুর্দশার প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল থাকা প্রয়োজন।”

তিনি জানান, শরণার্থী ক্যাম্পে গিয়ে বহু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

আমি এমন সব পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি, যারা অকল্পনীয় ক্ষতি ও কষ্টের শিকার হয়েছেন। তাঁদের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমি তাঁদের গল্পগুলো সবার কাছে তুলে ধরতে চাই।

বিবৃতিতে বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, তাহসান দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থীদের পক্ষে একজন সক্রিয় কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করছেন।

“তাঁর সম্পৃক্ততা এমন এক সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধের প্রতিফলন, যা এই সময়ে আমাদের সবার প্রয়োজন। তাঁর নিয়োগের মেয়াদ বাড়াতে পেরে আমরা গর্বিত,” বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দশ লাখের বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের কণ্ঠস্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত কয়েক বছরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন তাহসান। তিনি ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন, শরণার্থী সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বিশ্ব শরণার্থী দিবসসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে যুক্ত ছিলেন।

২০২৫ সালে ক্যাম্পের একাংশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করেন তিনি। ওই ঘটনায় হাজারো মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হওয়ার বিষয়টি নিজের চোখে দেখেছেন বলে জানান।

সে সময় তাহসান বলেন, “শরণার্থীরা স্বেচ্ছায় নিরাপদে নিজ দেশে ফিরতে চায়। যতদিন তা সম্ভব না হয়, ততদিন আমাদের তাদের পাশে থাকতে হবে—সহায়তা, সুরক্ষা ও জীবনরক্ষাকারী সেবা দিয়ে।”

ইউএনএইচসিআরের কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “শরণার্থী সংকট মোকাবেলায় সংস্থাটির অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য আমি কৃতজ্ঞ, বিশেষ করে তাদের কাজের সঙ্গে জড়িত ঝুঁকিগুলো বিবেচনায় নিলে।”

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই কক্সবাজার জেলার ৩৩টি ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে বসবাস করছেন, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী আবাসন।

প্রায় নয় বছর ধরে এসব ক্যাম্পে বসবাস করা অনেক শরণার্থীর জন্য শিক্ষা, জীবিকা ও দীর্ঘমেয়াদি সুযোগের প্রবেশাধিকার সীমিত।

ইউএনএইচসিআরের ৩৬ জন শুভেচ্ছাদূতের একজন হিসেবে তাহসান এখন একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করছেন। শুভেচ্ছাদূতরা জনসমর্থন তৈরি এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রয়োজন ও অধিকার তুলে ধরার মাধ্যমে সংস্থাটির কার্যক্রমকে এগিয়ে নেন।

বিবৃতিতে ইউএনএইচসিআর বলছে, তাহসানের দায়িত্ব নবায়নকে শরণার্থীদের প্রতি সংস্থাটির আস্থা ও যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদি এই সংকটে আক্রান্ত মানুষগুলো বিশ্ববাসীর দৃষ্টি থেকে হারিয়ে না যায়।

টেকনাফের পাহাড় থেকে তিন যুবকের লাশ উদ্ধারঃ পুলিশ বলছে ‘পাচার-ডাকাতি’ দ্বন্দ্ব

কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ার গহীন পাহাড় থেকে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ তাদের ‘ডাকাতি ও মানবপাচারের’ সাথে জড়িত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকার পাহাড়ে তাদের মরদেহ দেখতে পান কাঠুরিয়ারা। পরে সেখান থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস ।

নিহতরা হলেন- স্থানীয় নুরুল কবিরের ছেলে মুজিব উল্লাহ, নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল বশর ও রুহুল আমিনের ছেলে রবিউল আওয়াল।

রবিউল আউয়ালের পিতা রুহুল আমিন জানান, আগের রাতে মোরশেদ আলম নামের এক যুবক তার ছেলেকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। সকালে পাহাড়ে মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে গিয়ে দেখেন, তার ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

মোরশেদ আলমের নামে ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান রুহুল আমিন।

পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস জানান, ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় অপর দুজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে তারা মারা যান।

পুলিশের ভাষ্য, এরা ৩ জন চিহ্নিত ডাকাত ও মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন জানান, রবিউল ও মুজিবের নামে থানায় অপরাধের রেকর্ড আছে।

“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণ ও মানব পাচারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, “পাহাড়ি এলাকাটি অপরাধীদের অভয়ারণ্য। অপহরণ ও মানবপাচার সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।”

ওই পাহাড়ি এলাকার বেশকয়েকজন কাঠুরিয়া জানান, সম্প্রতি গহীন পাহাড় থেকে মাঝে মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ ভেসে আসে। লোকজনকে জিম্মি করে রাখার ঘটনা ঘটে এখানে।

তাদের ধারণা, জিম্মিদের সঙ্গে জড়িতদের সংঘর্ষের জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

৫৮ দিন চলতে হবে শুধু ৭৭ কেজি চালে!

“৭৭ কেজি চাল দিয়ে কি ৫৮ দিন চলে?”

কক্সবাজারের উপকূলে দাঁড়িয়ে করুণ কণ্ঠে এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন জেলে আব্দুস সালাম। যে জেলেরা উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিয়ে দেশের মানুষের পাতে আমিষ তুলে দেন,আজ সেই জেলেদের ঘরেই হিসাব মেলে না দু’বেলা খাবারের।

সমুদ্রই যাদের জীবন, সমুদ্রের উপর নির্ভরশীল যাদের জীবিকা সেই জেলে পরিবারগুলোর ঘরে এখন নীরব উৎকণ্ঠা।

প্রায় দুইমাস পুরোপুরি আয় বন্ধ থাকায় চরম দূর্ভোগে পড়েছেন উপকূলের জেলেরা।এই দীর্ঘ সময়ে ৭৭ কেজি চাল যেন তাদের কাছে টিকে থাকার লড়াইয়ের খুবই অপ্রতুল এক সম্বল।

জেলে আব্দুস সালাম বলেন, “আমার পরিবারে ৫ জন মানুষ। ৭৭ কেজি চাল দিয়ে ২ মাস চলে না। আমরা কী খাবো?”

আরেক জেলে আক্ষেপ করে বলেন,”শুধু চাল দিয়ে তো আর সংসার চলে না।আমার সন্তানের স্কুলের ফি,বৃদ্ধ বাবার ঔষুধের খরচ কিছুই জোগাড় করতে পারছি।আমাদের টাকা দরকার,শুধু চাল না।”

মৎস্য সংরক্ষণ ও প্রজননের জন্য সরকার প্রতি বছরের মতো এবারও সমুদ্রে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই সময়ে সারা দেশের মতো কক্সবাজারেও জেলেদের জন্য দেওয়া হচ্ছে খাদ্য সহায়তা।

জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৪২৮ জন। এর মধ্যে ৬৪ হাজার ২৩ জন জেলে পাচ্ছেন চাল। বাকী ৪০৫ জন নদীতে মাছ ধরেন বলে তালিকার বাইরে রয়েছেন বলে তথ্য দিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।

তবে বাস্তবতায় রয়েছে ভিন্ন চিত্র।কয়েকজন জেলের অভিযোগ কার্ড থাকা সত্ত্বেও এবার তারা চাল পাচ্ছেন না।

জেলে মোতাহের বলেন,“আমার কার্ড আছে, আগে চাল পাইছি। কিন্তু এবার দেয় নাই।”

এ বিষয়ে চৌফলদন্ডী ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আয়ুব আলী বলেন,”গতবার কিছু জেলে চাল না পাওয়ায় সমস্যা হয়েছিল। তাই এবার পুরনো তালিকা এবং অনলাইন নিবন্ধন যাচাই করে প্রকৃত জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।”

গত ১৮ এপ্রিল থেকে চৌফলদন্ডীতে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। আগামী ২২ বা ২৩ এপ্রিলের মধ্যে এই কার্যক্রম শেষ হবে বলে জানিয়েছেন টেকনিক্যাল কর্মকর্তা ফরিদুল আলম।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন,এবার কক্সবাজারের জেলেরা আগের চেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছেন।

৫৮ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা হয়তো সাগরের জন্য আশীর্বাদ,কিন্তু উপকূলের হাজারো পরিবারের জন্য তা হয়ে উঠেছে বেঁচে থাকার কঠিন সংগ্রাম।

আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি: ‘ভাসমান উদ্ধার ৯ জনের ৬ জনই পাচারচক্রের সদস্য’

সৌরভ দেব | বে ইনসাইট

কক্সবাজার-টেকনাফ উপকূল থেকে অবৈধভাবে নৌপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় উদ্ধার হয় ৯ জন। এরমধ্যে ৬ বাংলাদেশিকে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা করে কোস্টগার্ড। বাকি তিনজন রোহিঙ্গাকে ভুক্তভোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের ভাষ্যে, অভিযুক্তদের মধ্যে অন্তত চারজনকে তারা ট্রলারের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট হিসেবে দেখেছেন, অন্য দুই বাংলাদেশিকে তারা নিজেদের মতোই ভুক্তভোগী যাত্রী বলে দাবি করেছেন।

এদিকে এই ঘটনায় অন্তত ২৫০ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য দিয়ে বিবৃতি দিয়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা। যাদের কোনো তালিকাই এখনো প্রশাসনের হাতে নেই। মামলা হয়নি কোনো ভুক্তভোগী পরিবার থেকেও।

ভুক্তভোগীদের বয়ান: ‘মাঝি, ড্রাইভার, দালালসহ উদ্ধার চারজনকে দেখেছি’

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ছয় বাংলাদেশিই পাচারচক্রের সদস্য। ওই ছয়জন হলেন, কক্সবাজার সদর উপজেলার মো হামিদ ও মো আকবর, টেকনাফের বাহারছড়ার মো তোফায়েল, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের সৈয়দ আলম, টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের মো সোহান উদ্দিন, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মহিউদ্দিন হৃদয়।

বে ইনসাইটের সঙ্গে কথা বলা দুই রোহিঙ্গা ভুক্তভোগী তারমধ্যে চারজনকে সরাসরি যুক্ত থাকার চিত্র তুলে ধরেন।

উদ্ধার হওয়া কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “মো. হামিদ আর মো. ছৈয়দ আলম ছিল ট্রলারটির মাঝি, মহিউদ্দিন হৃদয় ইঞ্জিন চালাত আর আকবর ছিল দালাল। বাকি দুইজনকে আমরা যাত্রী হিসেবেই দেখেছি।”

তিনি অভিযোগ করেন, দালাল আকবর যাত্রীদের ওপর নির্যাতন চালাতেন।

“আমি এক গ্লাস পানি চাইলে সে আমাকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। সবচেয়ে বেশি মারধর করেছে সে-ই।”

একই ধরনের বর্ণনা দিয়েছেন ১ নম্বর ক্যাম্পের এনাম উল্লাহ ইমরানও। তিনিও এই যাত্রায় ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিলেন।

পুলিশের অবস্থান: ‘কোস্টগার্ডের তদন্তে ছয়জনই জড়িত’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, টেকনাফ থানার উপ-পরিদর্শক সনজীব কান্তি নাথ বলেন,
“কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। তাদের তদন্তে ছয়জনেরই সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। আমরা রিমান্ড চাইব, এরপর বিস্তারিত বলা যাবে।”

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও নিশ্চিত করেছেন, উদ্ধার হওয়া ৯ জনের মধ্যে ৬ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে কারাগারে আছেন।

পাচারের নেটওয়ার্ক: ক্যাম্প থেকে গ্রাম বিস্তৃত চক্রের ইঙ্গিত

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা থেকে দালালদের মাধ্যমে যাত্রী সংগ্রহ করে ওই ট্রলারে তোলা হয়েছিল।

রফিকুল ইসলামের দাবি, ৬ নম্বর ক্যাম্পের সি ব্লকের মাহ নূর নামের এক দালাল তাকে “টেকনাফ বন্দরে কাজ” দেওয়ার কথা বলে ট্রলারে তোলে। পরে পরিবারের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেয়। ট্রলারডুবির খবর ছড়াতেই ওই দালাল পালিয়ে যায়।

রামুর কচ্ছপিয়া দক্ষিণ পাড়া ওই ট্রলারে গিয়ে নিখোঁজ আছে ৪ যুবক। তাদেরই একজন মিজবাউল হকের পরিবার জানায়, স্থানীয় আবদুল হামিদ ১ এপ্রিল সকাল ১১টায় তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান।

তার বাবা মোজাম্মেল হক বলেন, “পরে ভয়েস মেসেজে জানায়, সে মালয়েশিয়া যাচ্ছে। হামিদ বলেছিল সে টেকনাফ পর্যন্ত পাঠিয়েছে। ফিরিয়ে আনতে চাইলে ৭০ হাজার টাকা চায়, আর মালয়েশিয়া পৌঁছালে আরও ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা।”

মোজাম্মেল হক জানান, ওই ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা একই এলাকার ফারুকের স্ত্রী মুমেনা আক্তারকে দিলেই হয়ে যাবে। মুমেনা আক্তারের ভাই মো আলম দালাল হিসেবে পরিচিত।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত আবদুল হামিদ ১২ এপ্রিল দেশ ছেড়ে দুবাই চলে গেছেন।

শহরের ‘মাঝি’ও সন্দেহের তালিকায়

কক্সবাজার শহরের ফদনার ডেইল এলাকা থেকে যাওয়া ৬ জনের একজন মো. হামিদ। যিনি উদ্ধার হলেও পাচারের অভিযোগে আটক এবং মামলার এক নম্বর আসামী।

তার ভাই মো. জুবায়ের বলেন, “হামিদ মাছ ধরার ট্রলারে কাজ করে। কাউকে না জানিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য বের হয়েছিল। এই যাত্রায় একসাথে যাওয়া তাদের আরেক ছোটো ভাই ইব্রাহিম এখনো নিখোঁজ।”

তবে বে ইনসাইট কথা বলেছে ফদনার ডেইলের অনেক স্থানীয়দের সাথে। কেউ কেউ বলছেন, হামিদের মাধ্যমেই অন্যদের যাওয়া হতে পারে এবং তিনি আগে থেকেই এমন ট্রলারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক মুদি দোকানদার বলেন, এটা ছিলো হামিদের ৬ষ্ঠ মালয়েশিয়া যাত্রা। তার আপন ভাইও যাচ্ছে বলে আরো ৪জনকে সাথে নিয়েছিলো হামিদ। এর আগে আরো ৫ বার যাওয়ায় বাকিরা তাকে বিশ্বাস করেছিলো।

আটক মো. আকবরের স্ত্রী দাবি করেন, “সে গত ২-৩ বছর ধরে টমটম চালায়। বন্ধুদের প্রলোভনে পড়ে চলে গেছে। না যাওয়া নিয়ে অনেক ঝগড়া হয়েছে। সে এর আগে মাছের ট্রলারে কাজ করতো।”

নারী ভুক্তভোগীর করুণ গল্প

ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ১৫ নম্বর ক্যাম্পের রাহেলা বেগমের সাথে যোগাযোগ করা না গেলেও তার বোন সেনোয়ারা বেগম জানান, “রাহেলার বিয়ে হয়েছে ৫ বছর। সন্তান না হওয়ায় স্বামীর বাড়িতে নির্যাতন চলছিল। বেশ কয়েকবার বাপের বাড়িও চলে আসছিলো। একদিন শুনি সে সাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে।”

“ভালো কাজের প্রলোভনে দালালরা তাকে মালয়েশিয়া নিতে যাচ্ছিল।”

প্রশাসনের কাছে নিখোঁজের তালিকা নেই

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আ. মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আন্দামান সাগরে নিখোঁজদের ঘটনায় প্রশাসন প্রাথমিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করে তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে।

মুঠোফোনে তিনি বলেন, “আমরা যতটুকু তথ্য পেয়েছি, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।”

প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ থাকার বিষয়ে কোনো তালিকা প্রশাসনের কাছে আছে কি না—এমন প্রশ্নে জেলা প্রশাসক বলেন, “এ ধরনের কোনো নির্দিষ্ট তালিকা এখনো আমরা পাইনি।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বা উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষ থেকেও এখনো পরিষ্কারভাবে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ বা তথ্য প্রদান করা হয়নি।

“যাদের উদ্ধারের কথা বলা হচ্ছে, তারাও বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে না। আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছি,” বলেন তিনি।

পুলিশ: ‘পাচারকারীদের নির্দিষ্ট তালিকা নেই’

কক্সবাজারের বিভিন্ন থানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে কোনো মামলা হয়নি।

পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পরামর্শে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “পাচারের ২৫০ জন নিখোঁজের বিষয়ে কোনো মামলা হয়নি।”

ওসি জানান, একটি জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে লোকজন স্থানান্তরের ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড থানায় মামলা করে।

“কোস্টগার্ড ছয়জনের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে মামলা দিয়েছেন,” বলেন তিনি।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্য থেকেই ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, “নয়জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ছয়জনকে আসামি করে মামলা দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে আটক করা হয়েছে, তারা জেলে আছে।”

টেকনাফ এলাকায় মানবপাচারকারীদের কোনো নির্দিষ্ট তালিকা পুলিশের কাছে আছে কিনা এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, “মানব পাচারকারীদের নির্দিষ্ট কোনো তালিকা আমাদের কাছে নেই। তবে যারা এসবের সাথে জড়িত বলে তথ্য পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”

সাম্প্রতিক সময়ে মানবপাচার সংক্রান্ত মামলার পরিসংখ্যান জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এগুলো আপনাকে ওভাবে দেওয়া যাবে না, তবে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে।”

অনিশ্চয়তা ও হতাশা ‘স্বেচ্ছা পাচারের’ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে

রোহিঙ্গাদের পাচারের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, বাস্তুচ্যুত ও রাষ্ট্রহীন অবস্থার কারণে তাদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা কাজ করছে।

“ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা নেই, নিজ দেশে যুদ্ধ ও বৈরী পরিস্থিতি রয়েছে, আবার ক্যাম্পের জীবনও খুব অনুকূল নয়, সব মিলিয়ে তারা হতাশায় ভুগছে,” বলেন তিনি।

তার মতে, এই ‘হোপলেসনেস’ ও ‘ড্রিমলেসনেস’ অনেককে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় প্রলুব্ধ করছে।

“তারা মনে করে সাগরের ওপারে হয়তো ভালো জীবন অপেক্ষা করছে। ফলে কাঠের নৌকায় করেও তারা বিপজ্জনক যাত্রায় বেরিয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশে থাকা স্বজনদের সহায়তা নেয়, আবার স্থানীয়ভাবে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে,” যোগ করেন তিনি।

তিনি এটিকে এক ধরনের “স্বেচ্ছায় ট্রাফিকিং” বলেও উল্লেখ করেন।

নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব

রোহিঙ্গাদের মধ্যে ঠিক কতজন মানবপাচারের শিকার হয়েছেন, এমন নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া কঠিন বলেও জানান শরণার্থী কমিশনার মিজানুর রহমান।

“যারা ট্রাফিক হয়ে সফলভাবে চলে যায়, তাদের তথ্য পাওয়া যায় না। সাধারণত কোনো নৌকাডুবি, উদ্ধার অভিযান বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার মাধ্যমে কিছু তথ্য জানা যায়,” বলেন তিনি।

তার মতে, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী বা বিজিবি কাউকে উদ্ধার করলে বা কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তখনই জানা সম্ভব হয় যে তারা পাচারের শিকার ছিল বা পাচারের পথে ছিল।

এক ট্রলারে প্রায় ২৮০ জন

বেঁচে ফেরা রোহিঙ্গা মো. রফিকুল ইসলামের ভাষ্যে, ডুবে যাওয়া ট্রলারটিতে প্রায় ২৮০ জন মানুষ ছিলেন। এর মধ্যে ১৩ জন ছিলেন পাচারকারী ও নৌকার স্টাফ, ২১ জন রোহিঙ্গা নারী এবং চারজন শিশু। প্রায় দেড়শ জন রোহিঙ্গা এবং বাকিরা বাংলাদেশি নাগরিক। সবাই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার আশায় এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় শামিল হয়েছিলেন।

‘মৃত্যুকূপে’ পরিণত কুঠুরি

রফিকুল জানান, ৮ এপ্রিল আন্দামান সাগরে পৌঁছানোর পর সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠে। এ সময় পাচারকারীরা যাত্রীদের জোর করে ট্রলারের মাছ ও জাল রাখার চারটি সংকীর্ণ কুঠুরিতে ঢুকিয়ে দেয়।

“মানুষে মানুষে ঠাসাঠাসি হয়ে যায়। শ্বাস নেওয়ার জায়গা ছিল না,” বলেন তিনি।

অতিরিক্ত ভিড় ও অক্সিজেনের অভাবে ওই কুঠুরিগুলোতেই ২৫ থেকে ৩০ জনের মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন রফিকুল।

পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন পাচারকারীরা হুমকি দেয়—ডেকে থাকা কেউ নিচে না নামলে ট্রলার ডুবিয়ে দেওয়া হবে। আতঙ্কের মধ্যেই বড় ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি ডুবে যায়।

একটি পানির বোতলেই বাঁচার লড়াই

ডুবন্ত ট্রলার থেকে কোনোভাবে একটি দুই লিটারের পানির বোতল আঁকড়ে ধরে ভেসে থাকেন রফিকুল।

“চারদিকে শুধু মানুষ ডুবছিল… আমি শুধু একটা বোতল ধরে ছিলাম… আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছেন,” বলেন তিনি।

পরদিন ৯ এপ্রিল একটি বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ তাকে সহ মোট ৯ জনকে উদ্ধার করে।

এই ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২৫০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু—যাদের অধিকাংশের কোনো আনুষ্ঠানিক তালিকাও নেই প্রশাসনের কাছে।

কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু: আদিনাথ মন্দিরের উত্তরাংশ থেকে চৌফলদণ্ডি হওয়ার সম্ভাবনা

বে ইনসাইট ডেস্ক

কক্সবাজারের সঙ্গে মহেশখালীর সরাসরি সেতু নির্মাণে সম্ভাব্য রুট নিয়ে চলছে আলোচনা। বিশেষ করে মহেশখালীর উত্তরাংশকে যুক্ত করার দাবি এবং এয়ারপোর্ট ও নৌ চলাচলের সীমাবদ্ধতা, দুই দিকেই গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী সেতুর অবস্থান নির্ধারণে উত্তর প্রান্তকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেন।

সভা শেষে বে ইনসাইটকে তিনি বলেন, সেতুটি যদি এমনভাবে করা যায় যাতে আদিনাথ মন্দিরের উত্তর বা শাপলাপুরের শেষ প্রান্ত থেকে সংযোগ স্থাপন হয়, তাহলে মহেশখালীর মানুষ সরাসরি কক্সবাজারে যেতে পারবে।

“এখন অনেককে এক থেকে দেড় ঘণ্টা ঘুরে যেতে হয়। সেতুটি উত্তর দিকে হলে এই সময় বাঁচবে,” বলেন তিনি।

তিনি বলেন, সময়, ব্যয় ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় সেতুর দৈর্ঘ্য কম রাখা এবং নাব্যতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনটি রুট, কিন্তু চূড়ান্ত কিছু নয়

সভায় সেতু নির্মাণের জন্য ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’, এই তিনটি সম্ভাব্য রুট নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে আদিনাথ মন্দির সংলগ্ন এলাকা, শাপলাপুরের দিক এবং ক্রস স্কুল-সংলগ্ন একটি রুট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে কোনো রুটই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং জনমত ও কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।

এয়ারপোর্ট ও নৌ চলাচল বড় বাধা

আলোচনায় উঠে এসেছে, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের কারণে সি রুটে সেতু নির্মাণে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে এই রুটে সেতু করতে হলে সেটি অনেক উঁচু করতে হবে, যাতে নৌবাহিনীর জাহাজসহ বড় নৌযান চলাচল করতে পারে। এতে বিমান ওঠানামার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী বলেন, “নেভি, স্টিমার, সব ধরনের নৌযান চলাচল মাথায় রেখে সেতুর উচ্চতা নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে এয়ারপোর্টের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।”

সেতুর সম্ভাবনা কোনদিকে বেশি?

আলোচনায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, আদিনাথ মন্দিরের আশপাশ হয়ে চৌফলদণ্ডি সেতুর কাছাকাছি এলাকায়, যেটি ‘বি’ রুট হিসেবে প্রস্তাবিত, সেখানে সেতু নির্মাণ তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত হতে পারে।

যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবুও সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ এই রুটকে তুলনামূলকভাবে কম জটিল বলে মনে করছেন।

কারন ‘এ’ রুটে যেটি শাপলাপুর হয়ে পোকখালী করার প্রস্তাবনা আসছে ,সেটা হলে কক্সবাজার শহরে আসতে দীর্ঘ সময় ও ব্যয় বাড়বে। আর ‘সি’ রুটের উচ্চতা নিয়ে আপত্তি থাকতে পারে সিভিল এভিয়েশনের।

সরকারের আশ্বাস, দ্রুত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

সভায় প্রধান অতিথি সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রকল্পটি এগোয়নি। তবে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

“মহেশখালীবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এই সেতু। দ্রুত কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে,” বলেন তিনি।

প্রাথমিক পর্যায়ে জনমত সংগ্রহ

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই বৈঠকে মূলত জনমত ও স্থানীয় চাহিদা বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। বিভিন্ন রুট নিয়ে মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে, যা পরবর্তী সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কাজে লাগবে।

ফলে কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু এখনো পরিকল্পনার প্রাথমিক ধাপেই রয়েছে, চূড়ান্ত রুট নির্ধারণে সামনে আরও আলোচনা ও কারিগরি বিশ্লেষণ প্রয়োজন হবে।

দুর্ঘটনাপ্রবণ চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নয়ন: ২৬.২১ কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ হবে ২০২৯ সালে

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হাইওয়ে ইম্প্রুভমেন্ট ফেজ-ওয়ান”-এর আওতায় মহাসড়কের ২৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পের পিপিপি (PPP) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, এই অংশের কাজ ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ২ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয় লেনের একটি ফ্লাইওভারও নির্মাণ করা হবে।

বাকি অংশে সমীক্ষা, অর্থায়নে জাইকার সঙ্গে আলোচনা

তিনি বলেন, মহাসড়কের প্রায় ৪৮ কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করতে বর্তমানে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) চলছে।

এই প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা (JICA)-র সঙ্গে আলোচনা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ অংশের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।

১৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের পুরোটা চার লেনে উন্নীত করতে একাধিকবার সমীক্ষা চালানো হয়েছে।

আগের সমীক্ষায় ১০ হাজার কোটি টাকার প্রাক্কলন

এর আগে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে সুইডিশ কনসালট্যান্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার সম্ভাব্যতা যাচাই করে।

সেই সমীক্ষা প্রতিবেদনে প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।

দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়ক

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে দুর্ঘটনাপ্রবণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করেছে।

“চিহ্নিত স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে দুর্ঘটনা কমবে,” বলেন তিনি।

গভীর সমুদ্রে মৃত্যু ফাঁদ:‘পশুর মতো আটকে রেখে’ ট্রলার যাচ্ছিলো মালয়েশিয়া

বে ইনসাইট | কক্সবাজার

কক্সবাজারের কুতুপালং বাজার থেকে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে রফিকুল ইসলামকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় টেকনাফের কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের রাজাছড়া এলাকায়। ২ এপ্রিল সেখানে একটি ঘরে তাকে ২০ থেকে ২৫ জনের সঙ্গে গাদাগাদি করে আটকে রাখা হয়। বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করলেই চলত নির্যাতন। রফিকুলের ভাষায়, “পশুর মতো বন্দী করে রাখা হয়েছিল, আশপাশের অনেক ঘরেই একইভাবে মানুষ আটকে ছিল।”

ধাপে ধাপে সমুদ্রে পাচার

৪ এপ্রিল রাতে রাজাছড়া সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ এলাকা থেকে ছোট মাছ ধরার নৌকায় করে তাদের সমুদ্রে নেওয়া হয়। পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে জঙ্গলে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে ছোট ট্রলার বদলে বড় ফিশিং ট্রলারে তোলা হয় তাদের, যা সেন্ট মার্টিনের অদূরে মিয়ানমারের জলসীমার দিকে অগ্রসর হয়।

এক ট্রলারে প্রায় ২৮০ জন

রফিকুল জানান, ট্রলারটিতে প্রায় ২৮০ জন মানুষ ছিল। এর মধ্যে ১৩ জন ছিল পাচারকারী ও নৌকার স্টাফ, ২১ জন রোহিঙ্গা নারী এবং চারজন শিশু। প্রায় দেড়শ জন রোহিঙ্গা এবং বাকিরা বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। সবাই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার আশায় এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় শামিল হয়েছিলেন।

মৃত্যুকূপে পরিণত কুঠুরি

রফিকুল বলেন, ৮ এপ্রিল আন্দামান সাগরে পৌঁছানোর পর সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠে। এ সময় পাচারকারীরা যাত্রীদের জোর করে ট্রলারের মাছ ও জাল রাখার চারটি সংকীর্ণ কুঠুরিতে ঢুকিয়ে দেয়।

অতিরিক্ত মানুষের চাপে ও অক্সিজেনের অভাবে সেখানে ২৫ থেকে ৩০ জনের মৃত্যু হয় বলে জানান রফিকুল।

পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন পাচারকারীরা যাত্রীদের হুমকি দেয়- ট্রলারের ডেকে থাকা কেউ কুঠুরিতে না নামলে ট্রলার ডুবিয়ে দেওয়া হবে। এর মধ্যেই বড় ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি ডুবে যায়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক আর আর্তনাদ।

একটি পানির বোতলেই বাঁচার লড়াই

ডুবন্ত ট্রলার থেকে কোনোভাবে একটি দুই লিটারের পানির বোতল আঁকড়ে ধরে ভেসে থাকেন রফিকুল। তার ভাষায়, “চারদিকে শুধু মানুষ ডুবছিল… আমি শুধু একটা বোতল ধরে ছিলাম… আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছেন।”

৯ এপ্রিল একটি বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ তাকে সহ মোট ৯ জনকে উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ঘটনায় অন্তত ২৫০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু নিখোঁজ রয়েছেন।

আরেক বেঁচে ফেরা কণ্ঠ

উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা যুবক মো. ইমরান জানান, ক্যাম্পের জীবন থেকে মুক্তি পেতে তিনি এই যাত্রায় বের হয়েছিলেন। ট্রলার ডুবে গেলে তিনি একটি পানির ট্যাংকি ধরে দুই দিন সাগরে ভেসে ছিলেন, পরে উদ্ধার পান।

আইনি ব্যবস্থা ও তদন্ত

এ ঘটনায় কোস্ট গার্ড বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেছে বলে জানান টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম।

ওসি বলেন, উদ্ধার হওয়া ৯ জনের মধ্যে ৬ জন দালালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ৩ জন ভিকটিমকে আদালতের মাধ্যমে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

জাতিসংঘের উদ্বেগ: এটি শুধু দুর্ঘটনা নয়

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বলছে, এই ঘটনা একটি বৃহত্তর সংকটের প্রতিফলন। দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুতি, ক্যাম্পের কঠিন জীবন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাব এবং কমে যাওয়া মানবিক সহায়তা মানুষকে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথে ঠেলে দিচ্ছে।

সংস্থা দুটি এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছে, আন্দামান সাগরে একটি নৌকা ডুবির ঘটনায় কমপক্ষে ২৫০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকরা আছেন।

সমাধান ছাড়া থামবে না মৃত্যুযাত্রা

শরণার্থী বিশেষজ্ঞ ও নৃবিজ্ঞানী রাহমান নাসির উদ্দিন বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা বন্ধ না হওয়া এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত না হলে এমন বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। পাচারকারীরা এই অসহায় পরিস্থিতিকে পুঁজি করে আরও মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

সমুদ্র শুধু ঢেউ নয়

বাংলাদেশ যখন নতুন বছরকে বরণ করছে, তখন আন্দামান সাগরের এই মর্মান্তিক ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, সমুদ্র শুধু নীল জলরাশি নয়, কখনো তা হয়ে ওঠে শত মানুষের নিঃশব্দ কবর।

টেকনাফের ঘরে ঘরে মায়ের আর্তনাদ ‘আমার ছেলে কই’?

আব্দুর রহমান, টেকনাফ | কক্সবাজার

কক্সবাজার উপকূলে সমুদ্রের ঢেউ কখনো শুধু পানি নয়, কখনো তা বয়ে আনে কান্না, হারিয়ে যাওয়ার গল্প, আর অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস। টেকনাফের উপকূলে আজ ঢেউ ভাঙে ঠিকই, কিন্তু সেই শব্দের ভেতরে মিশে থাকে অসংখ্য মায়ের আর্তনাদ “আমার ছেলে কই?”

শাহপরীর দ্বীপের সরু গলিতে, বিকেলের মাঠে, কিংবা নাফ নদীর পাড়ে, যেখানে একসময় শিশুদের হাসি, ফুটবলের দৌড় আর স্বপ্নের উড়ান ছিল, সেখানে এখন অনিশ্চয়তার ছায়া।

টেকনাফে এখন রাত নামলেই শুধু অন্ধকার নামে না, নামে আতঙ্ক। সমুদ্রপথে ভেসে যায় স্বপ্ন, আর তীরে বসে থাকে পরিবার। কেবল অপেক্ষায়, প্রতীক্ষায়, আর অবিরাম কান্নায়।

প্রলোভনের ফাঁদে নিখোঁজ আনাছ

টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের কিশোর মোহাম্মদ আনাছ। বয়স মাত্র ১৪। স্থানীয় হাজি বশির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। ফুটবল ছিল তার স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্নই তাকে ঠেলে দেয় অন্ধকারে।

বিদেশে ফুটবল খেলার প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় দালালচক্র তাকে ঘর থেকে বের করে আনে। পরে মাত্র ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয় আরেক দালাল চক্রের কাছে। সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে তাকে তুলে নেওয়া হয় একটি নৌকায়।

পরিবারের সঙ্গে শেষ যোগাযোগ হয় একটি ফোন কলে। ওপার থেকে দাবি করা হয় তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ। না দিলে হত্যার হুমকি।

ধারদেনা করে সেই টাকা জোগাড় করে পরিবার। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও আনাছ আর ফেরেনি।

“টাকা দিলাম, ছেলেকে পেলাম না”

আনাছের মা ছমুদা বেগমের কণ্ঠে এখনও অপেক্ষা আর হতাশা:

ফুটবল খেলার কথা বলে আমার ছেলেকে নিয়ে গেছে। পরে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে তিন লাখ টাকা নিল। এখনো আমার ছেলেকে ফেরত দেয়নি। পুলিশের কাছেও গেছি, কোনো বিচার পাইনি।

পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত দালালরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আনাছের মা ছমুদা বেগম বলেন, “মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা ‘দালাল’ ইব্রাহীমের কথা মতো তার ভাতিজা স্থানীয় মো. ফারুকসহ স্বজনকে তিন লাখ টাকা দিই। তবে এখনও ছেলেকে ফিরে পাইনি। এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশসহ জনপ্রতিনিধির কাছে অভিযোগ দিয়েছি, তবে কোনো সুরাহা হয়নি।”

খেলতে গিয়ে আর ফেরা হয়নি

টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের উত্তরপাড়ার একটি সাধারণ পরিবার। সেখানেই থাকতেন আব্দুর রহমান। সবার মতোই স্বাভাবিক জীবন, ছিলো হাসি, গল্প আর স্বপ্নে ভরা দিনগুলো।

কিন্তু একদিন বিকেলে খেলতে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেননি তিনি।

প্রথমে পরিবার ভেবেছিল, হয়তো বন্ধুদের সঙ্গে কোথাও গেছে। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত, রাত পেরিয়ে দিন কিন্তু আব্দুর রহমানের কোনো খোঁজ মেলেনি। উদ্বেগ ধীরে ধীরে রূপ নেয় আতঙ্কে।

কয়েকদিন পর হঠাৎ করেই আসে সেই ফোন কল, অচেনা নম্বর অপর প্রান্তে অচেনা কণ্ঠ। সেখান থেকেই জানা যায়, স্থানীয় দালালচক্রের মাধ্যমে তাকে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয়েছে।

এরপর শুরু হয় দুঃস্বপ্নের আরেক অধ্যায়।

আব্দুর রহমানের ভাই আব্দুস সালাম বলেন,

ওকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর আমাদের কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করে। না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমরা তো গরিব মানুষ, এত টাকা জোগাড় করা আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

পরিবারের প্রতিটি দিন এখন অনিশ্চয়তায় কাটে। ফোনের অপেক্ষা, কোনো খবরের আশায় দরজার দিকে তাকিয়ে থাকা, সবকিছু যেন এক অন্তহীন দুঃস্বপ্ন।

আব্দুর রহমান বেঁচে আছে কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরও আজ তাদের কাছে অজানা।

পরিসংখ্যান বলছে ভয়াবহ চিত্র

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী:

  • ২০১৬–২০২৫ পর্যন্ত কক্সবাজারে ৩,১৩৪ জন মালয়েশিয়াগামীকে উদ্ধার করা হয়েছে
  • তাদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা
  • ১১৫টি মামলা হয়েছে উখিয়া-টেকনাফ থানায়
  • আসামি করা হয়েছে প্রায় ১,১০০ জনকে
  • আটক হয়েছে প্রায় ৬০০ পাচারকারী

চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পশ্চিমে সাগর থেকে ২৬৩ জন নারী-শিশুসহ যাত্রীকে উদ্ধার করে নৌবাহিনী। আটক করা হয় পাচারচক্রের ১০ সদস্যকে।

নতুন রুট: ছোট ট্রলার থেকে গভীর সমুদ্র- যেভাবে সক্রিয় দালালচক্র

সম্প্রতি শাহপরীর দ্বীপের ঘোলার চর এলাকা ঘিরে পাচার তৎপরতা নতুন করে বেড়েছে বলে অভিযোগ।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি কয়েকটি ধাপে কাজ করে।

প্রথম ধাপে, স্থানীয় দালালরা গ্রামের কিশোর ও তরুণদের টার্গেট করে। কেউ ফুটবল খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন দেখায়, কেউ বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে খেলতে বের হওয়া বা ঘরের বাইরে থাকা অবস্থায় সরাসরি অপহরণ করা হয়।

দ্বিতীয় ধাপে, ভুক্তভোগীদের দ্রুত গোপন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করার আগেই তাদের উপকূলীয় নির্জন পয়েন্টে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকে ছোট ট্রলার।

তৃতীয় ধাপে, রাতের আঁধারে এসব ট্রলারে করে তাদের গভীর সমুদ্রে নেওয়া হয়। সেখানে অপেক্ষমান বড় জাহাজ বা ট্রলারে তুলে দেওয়া হয়, যেগুলো মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

চতুর্থ ধাপে শুরু হয় মুক্তিপণের খেলা। ভুক্তভোগীদের পরিবার জানায়, বিদেশে অবস্থানরত চক্রের সদস্যরা ফোন করে কয়েক লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে নির্যাতন, এমনকি হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের কান্না বা নির্যাতনের শব্দও ফোনে শোনানো হয়, যাতে পরিবার দ্রুত টাকা জোগাড় করে।

পঞ্চম ধাপে, মুক্তিপণ আদায়ের পরও অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের আর খোঁজ মেলে না। কেউ নিখোঁজ থাকে, কেউ মারা গেছে, এমন আশঙ্কা থেকে যায় পরিবারের মধ্যে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বে ইনসাইট জানতে পারে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় স্থানীয় দালালদের পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকে। স্থানীয়ভাবে যারা লোক সংগ্রহ করে, তারা বিদেশে থাকা চক্রের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে এবং পরে মুক্তিপণের অর্থ ভাগাভাগি করে নেয়।

ভুক্তভোগী পরিবার গুলোর দাবি, এদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে কাজ করে আসছে এবং এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় সহজে আইনের আওতায় আসছে না।

এই প্রক্রিয়ায় অনেককে জোরপূর্বক নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাতের আঁধারে ১৫ পয়েন্টে পাচার

টেকনাফের অন্তত ১৫টি পয়েন্ট দিয়ে রাতের আঁধারে নিয়মিত পাচার চলছে বলে খোঁজ পেয়েছে প্রতিবেদক। এসব কাজে জড়িত রয়েছে একটি সুসংগঠিত দালাল নেটওয়ার্ক।

অভিযোগের তালিকায় রয়েছে একাধিক স্থানীয় দালালের নাম, যারা দীর্ঘদিন ধরে এই বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত।

অভিযুক্ত দালালদের তালিকা

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র, গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও আশপাশ এলাকায় সক্রিয় মানব পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে।

তারা হলেন- মোহাম্মদ তাহের, মোহাম্মদ ইসমাইল, শাহাব মিয়া, মো. আজগর, নুরুল নবী, হেলাল উদ্দিন, মো. ফেরুজ, পোয়া মাঝি, শওকত আলম, নজির আহমেদ, আবু তাহের, মাম্মা, নজরুল পুতু, লাল মিয়া, শাহজান মিয়া, সৈয়দ উল্লাহ, মো. শামীম কাসু, মো. ফয়সাল, আব্দুল আমিন, মো: হোসন, প্রকাশ মাহসন, মো. হাসান (প্রকাশ আতুড়ি), রেজাউল করিম (মোরাদ), মাহামুদুল হক, মোহাম্মদ আমিন (প্রকাশ বদ্দা মাঝি), আজিজুল হক, মোহাম্মদ দেলোয়ার, জামাল হোছন এবং মোহাম্মদ রফিক (প্রকাশ বার্মায়া রফিক)।

তবে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

পুলিশের অবস্থান: “অভিযান চলছে”

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন:

মানবপাচার একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ। এটি প্রতিরোধে আমরা সর্বোচ্চ তৎপর। নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়াগামী ট্রলার সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

অপেক্ষার প্রহর

টেকনাফের উপকূলজুড়ে এখন এক অদৃশ্য আতঙ্ক। সাগরের ঢেউ যেমন ফিরে আসে, তেমনি কি ফিরবে হারিয়ে যাওয়া সন্তানেরা?

আনাছের মা এখনও দরজার দিকে তাকিয়ে থাকেন। প্রতিটি শব্দে চমকে ওঠেন, হয়তো এবার ফিরবে তার ছেলে। কিন্তু সময় যত যাচ্ছে, সেই আশা ততই ফিকে হয়ে আসছে।

একটা প্রলোভন, একটা ডাকে সাড়া। “বিদেশে খেলতে যাবে?” এরপরই নিখোঁজ হয়ে যায় আনাছের মতো শত শত কিশোর।

ঘর থেকে বের হওয়া সেই ছোট্ট পা, ফিরে আসে না আর। ফোন আসে, দাবি আসে, ভয় আসে। ফিরে আসে না শুধু মানুষটা।

আপনি জানেন কী? লবণাক্ত সমুদ্র, মিষ্টি নদীএকই জলের দুই স্বাদ- রহস্যটা কোথায়?


আমরা প্রতিদিন যে নদীর পানি দেখি তা স্বচ্ছ, পানযোগ্য। অথচ সেই নদীরই শেষ গন্তব্য সমুদ্র, যার পানি তীব্র নোনতা। একই উৎসের জল, কিন্তু স্বাদে এত পার্থক্য কেন?
চলুন, সহজ করে জেনে নেওয়া যাক এই নোনা জলের গল্প।

১. লবণের জন্ম স্থলভাগে
বৃষ্টি, পাথর আর খনিজের গল্প


সমুদ্রের লবণের শুরুটা কিন্তু স্থলভাগেই। বৃষ্টি যখন পাহাড়, মাটি ও পাথরের ওপর পড়ে, তখন ধীরে ধীরে পাথর ক্ষয় হতে থাকে। এই ক্ষয়ের ফলে সোডিয়াম, ক্লোরাইডসহ নানা খনিজ পানির সঙ্গে মিশে যায়।
নদী সেই খনিজগুলোকে বয়ে নিয়ে যায় দূর থেকে দূরে, শেষমেশ সমুদ্রে। অর্থাৎ, সমুদ্রের লবণের মূল ‘সরবরাহকারী’ আমাদের এই ভূমিই।

২. নদী নোনতা নয় কেন?
প্রবাহই এখানে মূল চাবিকাঠি


নদী লবণ বয়ে আনে, কিন্তু নিজে নোনতা হয় না। কেন?
কারণ নদী সবসময় চলমান। খনিজগুলো নদীতে জমে থাকার সুযোগ পায় না, দ্রুত সাগরে গিয়ে মিশে যায়।
তার ওপর নিয়মিত বৃষ্টির পানি নদীকে ‘পাতলা’ করে রাখে। ফলে লবণের ঘনত্ব এতটাই কম থাকে যে আমরা তা টেরই পাই না।

৩. বঙ্গোপসাগর: একটু ভিন্ন স্বাদ
কম লবণাক্ততার পেছনে নদীর প্রভাব


বিশ্বের অধিকাংশ সমুদ্রে গড় লবণাক্ততা প্রায় ৩৫‰ (প্রতি হাজারে ৩৫ ভাগ)। কিন্তু আমাদের বঙ্গোপসাগরে এই মাত্রা তুলনামূলক কম। প্রায় ৩০–৩৪‰।
এর কারণ কী?
গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার মতো বিশাল নদীগুলো বিপুল পরিমাণ মিষ্টি পানি এনে মিশিয়ে দেয় সমুদ্রে। তার সঙ্গে যোগ হয় মৌসুমি বৃষ্টিপাত।
ফলে, লবণাক্ততার ভারসাম্য এখানে কিছুটা কমে আসে।

৪. সমুদ্র কেন লবণ জমিয়ে রাখে?
বাষ্পীভবন ও সময়ের দীর্ঘ হিসাব


নদী লবণ এনে দেয়, আর সমুদ্র তা ধরে রাখে হাজার হাজার বছর ধরে।
সূর্যের তাপে সমুদ্রের পানি বাষ্প হয়ে আকাশে উঠে যায়, কিন্তু লবণ থেকে যায় নিচেই। এই বাষ্পীভবনের ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লবণের পরিমাণ বাড়তেই থাকে।
এছাড়া সমুদ্রতলের আগ্নেয়গিরি ও খনিজ নির্গমনও এই লবণাক্ততা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

সংক্ষেপে সহজ কথা

নদী লবণ বহন করে, আর সমুদ্র তা জমা রাখে। এই সহজ প্রক্রিয়াই তৈরি করে—মিষ্টি নদী আর নোনতা সমুদ্রের বৈপরীত্য।
প্রকৃতিকে জানুন, উপকূলকে বুঝুন। বে ইনসাইটের সঙ্গে থাকুন।

চৈত্রের স্বস্তি, বৈশাখের আগুন: শুক্রবার পর্যন্ত মেঘ-বৃষ্টি, এরপরই বাড়বে তাপমাত্রা

বে ইনসাইট | কক্সবাজার

চৈত্রের শেষভাগ। কক্সবাজারের আকাশে কখনো মেঘ, কখনো রোদ। প্রকৃতি যেন নিজের রঙ বদলে নিচ্ছে বারবার। বাতাসে হালকা ঝাপটা, মাঝে মাঝে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি, সব মিলিয়ে এক ধরনের স্বস্তির আবহ।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলছেন, শুক্রবার পর্যন্ত এই পরিবর্তনশীল আবহাওয়া অব্যাহত থাকবে। ঝড়ো হাওয়া, হালকা বৃষ্টি আর সহনীয় তাপমাত্রা, সব মিলিয়ে প্রকৃতি থাকবে কিছুটা ভারসাম্যে।

তবে এই স্বস্তি স্থায়ী নয়।

শনিবার থেকে বদলাবে আবহাওয়া
মেঘ কাটলেই বাড়বে গরমের তীব্রতা

শনিবারের পর থেকেই বদলাতে শুরু করতে পারে আবহাওয়ার চিত্র। ধীরে ধীরে মেঘ সরবে, রোদ পুড়বে আরও তীব্র হয়ে। বৃষ্টি কমে গেলে, আর আকাশ পরিষ্কার থাকলে বায়ুমণ্ডল জমতে শুরু করবে উত্তাপে।

মাসের শেষ দিকে তাপমাত্রা ছুঁতে পারে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত এই তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।

এপ্রিলের শেষে তাপদাহের শঙ্কা
টানা গরমেই তৈরি হতে পারে ‘মৃদু তাপপ্রবাহ’

এই তাপমাত্রা শুধু সংখ্যা নয়, এ এক সতর্কবার্তা।

কারণ, টানা কয়েকদিন যদি তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রির মধ্যে থাকে, তখন সেটিকে বলা হয় মৃদু তাপদাহ। আর সেই তাপদাহই এপ্রিলের শেষ দিকে কক্সবাজারে হানা দিতে পারে, এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না আবহাওয়াবিদরা।

গরমে বাড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি
পানিশূন্যতা থেকে হিট স্ট্রোক, সতর্ক না হলেই বিপদ

প্রকৃতির এই উষ্ণতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে শরীরের ঝুঁকিও।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের শাহজাহান নাজিরের ভাষায়, অতিরিক্ত গরমে শরীর থেকে ঝরে পড়ে ঘাম, আর সেই সঙ্গে কমে যায় পানির ভারসাম্য। তৈরি হয় পানিশূন্যতা। মাথা ঘোরা, দুর্বলতা আর ক্লান্তি তখন সঙ্গী হয়ে ওঠে।

অনেক সময় দেখা দেয় হিট এক্সহসশন অস্বস্তি, মনোযোগের ঘাটতি, অকারণ অবসাদ। আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হিট স্ট্রোক পর্যন্ত গড়াতে পারে, যা হতে পারে প্রাণঘাতী।

ঝুঁকিতে শিশু, বয়স্ক ও শ্রমজীবীরা
রোদে দীর্ঘক্ষণ থাকলেই বাড়ছে শারীরিক ঝুঁকি

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশু আর বয়স্করা। তাদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাই গরমের আঘাতও লাগে দ্রুত।

শ্রমজীবী মানুষ, যারা রোদে পুড়ে দিন কাটান, তাদের ঝুঁকি আরও বেশি। দীর্ঘক্ষণ সূর্যের তাপে থাকলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন কমে যেতে পারে, বাড়তে পারে অসুস্থতার আশঙ্কা।

গরমে স্বস্তির উপায়
পানি, পোশাক ও খাদ্যাভ্যাসেই মিলতে পারে সুরক্ষা

তবে এই গরমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পথও আছে, সহজ কিছু অভ্যাসেই মিলতে পারে স্বস্তি।

পিপাসা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করা জরুরি। প্রতিদিন অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার। ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা ফলের রস শরীরকে রাখে সতেজ। চা, কফি বা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলাই ভালো।

হালকা রঙের, ঢিলেঢালা সুতির কাপড় শরীরকে দেয় আরাম। বাইরে বের হলে ছাতা, সানগ্লাস, টুপি ব্যবহার করা উচিত।

খাবারের ক্ষেত্রেও হালকা ও সহজপাচ্য খাবার শাকসবজি, ফলমূল, দই—এসবই গরমে শরীরের জন্য উপকারী।

ঘরেও চাই একটু শীতলতা
ছোট অভ্যাসেই মিলতে পারে বড় স্বস্তি

দিনের বেলা পর্দা টেনে রাখলে সরাসরি রোদ ঢোকে না। রাতে আবহাওয়া ঠান্ডা হলে জানালা খুলে দিলে ঘর হয় স্বস্তিদায়ক।

ভিজে গামছা দিয়ে মুখ বা মাথা মুছলে পাওয়া যায় মুহূর্তের প্রশান্তি।

প্রকৃতি এখন এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে, স্বস্তি আর তাপের মাঝামাঝি।
এই সময়টুকু যেন এক নীরব বার্তা দেয়, এখনই প্রস্তুত হও, কারণ সামনে আসছে গরমের দীর্ঘ পথ।